হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনে গত বছরের শুরুতে ক্রিপ্টো বাজারে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের মতো প্রধান ডিজিটাল কারেন্সিগুলো লোকসান নিয়ে বছর শেষ করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২৬ সাল পুনরুদ্ধারের ধারায় ফিরতে পারে ক্রিপ্টো বাজার। তবে এতে বাগড়া দিতে পারে স্বর্ণসহ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর ক্রমবর্ধমান চাহিদা। খবর আনাদোলু।
যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘বিটকয়েন সুপারপাওয়ার’ বানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। গত মার্চে এক নির্বাহী আদেশে বিটকয়েনের কৌশলগত মজুদ ও যুক্তরাষ্ট্রের ডিজিটাল সম্পদের মজুদ গঠনের ঘোষণা দেন তিনি।
এ উদ্যোগগুলোর পাশাপাশি মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদহার কমানোর পর বিটকয়েনের দাম রেকর্ড ১ লাখ ২৬ হাজার ১৯৯ ডলারে পৌঁছায়। ইথেরিয়ামের দাম উঠে ৪ হাজার ৯৫৬ ডলারে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে ঘিরে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও ফেডের ভবিষ্যৎ নীতিপথ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় ক্রিপ্টো বাজারে বিক্রির চাপ বাড়ে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ১ লাখ ডলারের সীমা ভাঙলেও ফেব্রুয়ারিতে বিটকয়েন নিম্নমুখী প্রবণতায় প্রবেশ করে। পরবর্তী সময়ে একাধিক উত্থান-পতনের পর সুদহার কমানোর বিষয়ে ফেডের সতর্কতা এবং উচ্চ প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের অতিমূল্যায়ন নিয়ে উদ্বেগের মাঝে নভেম্বরে বিটকয়েন আবার ৮৫ হাজার ডলারের নিচে নেমে আসে।
তুরস্কের বিনিয়োগ ব্রোকার প্রতিষ্ঠান একে ইয়াতিরিমের বৈশ্বিক বাজার কৌশলবিদ উরাজ চাই জানান, গত অক্টোবরের রেকর্ড দামের তুলনায় বিটকয়েন এখনো প্রায় ২৭ শতাংশ নিচে রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ফেডের সুদহার হ্রাস, ট্রাম্প প্রশাসনের ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং আর্থিক ব্যবস্থা আরো বেশি ক্রিপ্টোবান্ধব হওয়া সত্ত্বেও এমন এক পর্যায়ে আমরা পৌঁছেছি, আগের ক্রিপ্টো বুল মার্কেটগুলোয় বিনিয়োগকারীরা যে রিটার্ন দেখতে অভ্যস্ত ছিলেন তা এখনো তার নিচে অবস্থান করছে।’
তিনি জানান, ‘প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে বিটকয়েনের উপস্থিতি প্রত্যাশামতো বাড়েনি। অন্যদিকে ডিজিটাল গোল্ডের পারফরম্যান্স ধাতব স্বর্ণকেও ছাড়িয়ে গেছে এবং স্টেবলকয়েন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন ধরনের ঋণের উৎসে পরিণত হয়েছে। ফলে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি ক্রিপ্টো বাজারেও ছড়িয়ে পড়ছে।’
তার মতে, বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে এখন সবচেয়ে বেশি অংশ জুড়ে রয়েছে মূল্যবান ধাতু। তাই ধাতব স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ার সময় ডিজিটাল গোল্ড এখনো পুরোপুরি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারেনি।
২০২৫ সালের অক্টোবর নাগাদ বিটকয়েন স্পট ইটিএফে মোট সম্পদের মূল্য কমে যায়। তবে এখনো এর আকার প্রায় ১২৫ বিলিয়ন ডলার।
চাই বলেন, ‘চলতি বছর বিটকয়েনের বাজার পুনরুদ্ধারের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু আলো কেড়ে নিচ্ছে মূল্যবান ধাতু।’
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিটকয়েন ও স্বর্ণের দামের অনুপাত ছিল ৪০-এর ওপরে। কিন্তু বর্তমানে তা এখন ২০-এর নিচে। স্বর্ণ ও রুপা উভয় ধাতুই ১৯৭৯ সালের পর গত বছর সবচেয়ে বেশি রিটার্ন দিয়েছে। নতুন বছরও শক্ত অবস্থান নিয়ে শুরু করেছে।